| বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-05-2026 ইং
  • 4210 বার পঠিত
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: মির্জা ফখরুল | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: মির্জা ফখরুল

‘সবকিছু সংসদের মাধ্যমে হতে হবে, সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আমরা একমত নই’: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ মে ২০২৬

ঢাকা: সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন বা উচ্চকক্ষে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতির বিষয়ে বিএনপি একমত নয় এবং যেকোনো মৌলিক পরিবর্তন অবশ্যই নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে হতে হবে।

শনিবার (০২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

১. জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার বিতর্ক

জুলাই সনদ নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাই সনদের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা ছিলাম। কিছু জায়গায় আমরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছি এবং স্বাক্ষরও করেছি। এখন অবলীলায় বলা হচ্ছে—সবটাই করতে হবে। কিন্তু উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আমরা একমত হইনি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সংস্কার বা পরিবর্তন আইনি প্রক্রিয়ায় সংসদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।

২. বিএনপি সংস্কারের বিরোধী নয়

বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণাকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমানই দেশে প্রথম সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সুতরাং বিএনপি সংস্কারের বিরোধী, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে সংস্কারের নামে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই, এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা।”

৩. ৮০ লাখ কোটি টাকার দেনা ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠন

দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিস্ট আমল আমাদের ওপর ৮০ লাখ কোটি টাকার বিশাল দেনা রেখে গেছে। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে ফেলে নতুন করে পুনর্গঠন করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”

৪. প্রশাসনিক দুর্নীতি ও তদবির সংস্কৃতিতে উদ্বেগ

সরকারে যোগদানের পর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকারে আসার পর যেদিকেই তাকাচ্ছি, শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাচ্ছি। দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে তদবির ছাড়া কাজ হয় না। এমনকি উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও তদবিরের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলবাজি বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।

৫. দলীয় শৃঙ্খলা ও জিয়া পরিষদ

দলের নাম ভাঙিয়ে নতুন কোনো সংগঠন বা ‘দোকান’ খোলার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিএনপির যথেষ্ট অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। জিয়া পরিষদের নামে নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা দোকান খোলা হোক, তা আমরা চাই না। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দিকেই আমাদের মনযোগী হতে হবে।”


উপসংহার:

মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ায় সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের চেয়ে নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে বৈধ সংস্কারের পথেই হাঁটতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রশ্নে তাঁর এই দৃঢ় অবস্থান আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।


তথ্যসূত্র: জিয়া পরিষদ প্রেস রিলিজ ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার

ওয়েবসাইট: bdsbulbulahmed.com

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency